ব্যবসার কর বাঁচান: আয় থেকে কোন কোন খরচ আইনগতভাবে বাদ দিতে পারবেন?
November 4, 2025 · 2 min read

ব্যবসা পরিচালনা করলে লাভ-লোকসানের হিসাব যেমন রাখতে হয়, তেমনি বছর শেষে ট্যাক্সের হিসাবও করতে হয়। কিন্তু আপনার মোট আয়ের পুরোটাই কি করযোগ্য? উত্তর হলো— না।
আয়কর আইন অনুযায়ী, ব্যবসা পরিচালনার জন্য আপনি যে যৌক্তিক খরচগুলো করেন, সেগুলো আপনার মোট আয় থেকে বাদ দিয়েই করযোগ্য আয় গণনা করা হয়। এই কর্তনযোগ্য খরচগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জানলে আপনি আইনগতভাবেই আপনার করের বোঝা কমাতে পারবেন, অর্থাৎ কর বাঁচাতে পারবেন।
করযোগ্য আয় কমাতে যে খরচগুলো বাদ দেওয়া যায়
আইন অনুযায়ী, আপনার ব্যবসার মোট আয় থেকে নিম্নলিখিত খরচগুলো বাদ দিতে পারবেন:
- ক্রয় ও মজুদ: কাঁচামাল ক্রয়, পণ্য মজুদ (Inventory) এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক ক্রয়ের খরচ।
- অফিস পরিচালনা: অফিস ভাড়া এবং ইউটিলিটি বিল (যেমন: বিদ্যুৎ, গ্যাস, ইন্টারনেট বিল)।
- কর্মী সংক্রান্ত খরচ: কর্মচারীদের বেতন, কল্যাণ ভাতা এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য করা খরচ।
- বিক্রয় ও বিপণন: পরিবহন খরচ, বিজ্ঞাপন খরচ এবং সেলস কমিশন।
- পেশাদার সেবা: অডিট ফি, লিগ্যাল ফি বা অন্যান্য পেশাদার সেবার খরচ এবং ব্যবসায়িক আপ্যায়ন খরচ (Entertainment Expenses)।
- রক্ষণাবেক্ষণ ও বীমা: ব্যবসার সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং বীমা প্রিমিয়াম।
- বিশেষ ব্যবসায়িক খরচ: সরকারি ট্রেড সফর বা ট্রেড ডেলিগেশনে অংশগ্রহণের খরচ।
- সদস্যপদ: ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কোনো ক্লাব বা সমিতিতে প্রবেশ ফি।
- তহবিলে চাঁদা: অনুমোদিত অংশগ্রহণ/কল্যাণ তহবিলে প্রদেয় অর্থ (শর্তসাপেক্ষে, সাধারণত নিট মুনাফার ৫% এর মধ্যে)।
- অন্যান্য যুক্তিসংগত খরচ: এককথায়, একচেটিয়াভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য করা অন্য যেকোনো যুক্তিসংগত খরচ।
কর বাঁচাতে হিসাবরক্ষণ সবচেয়ে জরুরি
আপনার করযোগ্য আয় কমানোর প্রধান শর্ত হলো, উপরে উল্লিখিত প্রতিটি খরচের সঠিক হিসাব ও প্রমাণপত্র (যেমন: ভাউচার, চালান, রসিদ) সংরক্ষণ করা।
কর বাঁচাতে হলে খরচের হিসাব-রক্ষণে সচেতন হতে হবে।
সঠিক হিসাবরক্ষণ শুধু আপনার ট্যাক্সই কমায় না, বরং এটি আপনার ব্যবসার প্রকৃত লাভের চিত্রটিও আপনার সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে।

